ভোটার তালিকা থেকে জীবিত ব্যক্তির নাম কর্তন হয়ে গেলে পুনরায় ঠিক করার উপায়

ভোটার তালিকা থেকে জীবিত ব্যক্তির নাম হয়ে গেলে পুনরায় ঠিক করার উপায় কি এই সম্পর্কে যদি জানতে চান? তাহলে সঠিক একটি আর্টিকেলে চলে এসেছেন।

আমরা জানি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ছোটখাটো অসাধারণ তার জন্য, সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভোগান্তির কারণ হয়।

ভোটার তালিকা থেকে জীবিত ব্যক্তির নাম কর্তন হয়ে গেলে পুনরায় ঠিক করার উপায়
ভোটার তালিকা থেকে জীবিত ব্যক্তির নাম কর্তন হয়ে গেলে পুনরায় ঠিক করার উপায়

ভুলবশত যাদের ভোটার তালিকা থেকে জীবিত ব্যক্তির নাম হয়ে গেছে, তারা google সন্ধান করে জানতে চাই পুনরায় ঠিক করার উপায় কি। তাই আজকে আমরা এ বিষয়ে সঠিক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব।

ভোটার তালিকা থেকে একজন ব্যক্তির নাম কর্তন হয়ে গেলে, সে ব্যক্তি যে কতটা ঝামেলার মধ্যে পড়ে যায়, সেটি সেই ব্যক্তি বুঝেন।

এই আর্টিকেলটি লিখতে গিয়ে একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। এক ব্যক্তি আমাকে এসে জিজ্ঞেস করেছে যে, বাবা আমি কি বেচে আছি নাকি মারা গেছি। সে ব্যক্তির কথাটি শুনে আমি তো অবাক হয়ে গেলাম। আমি বললাম যে হঠাৎ করে আপনি এসব কি বলছেন। আপনি তো অনায়াসেই বেঁচে রয়েছেন, হেঁটে চলছেন। কেউ মারা গেলে কি এরকম ভাবে কথা বলতে, হাঁটতে পারে।

তখন সে ব্যক্তি আমাকে বলল আমি ভূত হয়ে আসতে পারি তুমি আমার হাত ধরে দেখো আমি জীবিত কিনা। আমি একটু তার কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। তারপর ব্যক্তিটির শরীর ছোয়ে অনুভব করলাম যে তিনি অবশ্যই জীবিত ব্যক্তি।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার কি হয়েছে একটু খুলে বলবেন। সেই সময় তিনি আমাকে বলল, গত নির্বাচনে ভোটার হতে পারি নাই। ভোটার এলাকায় আমার নাম আসে নাই।

তাই আমি উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়েছিলাম খোঁজখবর নিতে, যে কি কারণে আমার নাম ভোটার তালিকায় আসলো না। উপজেলা নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মচারী আমার ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে ভিতরে গেল।

তারপর ফিরে এসে বলল চাচা আপনি তো মারা গেছেন। আমাদের রেকর্ড বইয়ে আপনার নাম কর্তন করা হয়েছে। তো কার ভুলের কারণে আমার নামটি কর্তন হয়ে গেল সেই সব কিছু আমাকে বললেন না।

শুধু বললেন আপনি উপজেলা নির্বাচন অফিসার বরাবর একটি আবেদন করতে পারেন। এবং আবেদনের সাথে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবমিট করলে ঠিক হয়ে যাবে, এতে কিছু সময় লাগতে পারে।

এদিকে আমি নির্বাচনের সময় ভোট দিতে পারিনি। এখন আমি কোন প্রয়োজনে সিম কিনব, মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট যেমন- বিকাশ, রকেট, নগদ একাউন্ট খোলাসহ ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় এমন কোন কাজ করতে পারছি না।

হোয়াট নাম্বার বলেছিল আমাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেবে। কিন্তু আমার ভোটার আইডি কার্ড কর্তন হওয়ার ফলে সেই ভাতাও পাইনি। এ অবস্থায় আমি এখন কি করতে পারি পরামর্শ চাইলেন আর ভোগান্তের কথাগুলো একে একে বলতে থাকলেন।

তারপর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম গত এক-দুই বছরের মধ্যে আপনার পরিবারের কোনো সদস্য মারা গিয়েছে কিনা। সে আমাকে বলল হ্যাঁ এক বছর আগে আমার মাতা/ মা মারা গিয়েছে।

তারপর হঠাৎ করে পাশে দিয়ে যাওয়া একজন অপরিচিত লোককে দেখে তিনি ডাক দিয়ে দাঁড়াতে বললেন। এবং আমাকে বললেন আমি তোমার সাথে অন্য সময় কথা বলব এই বলে তিনি চলে গেলেন।

বয়স তো মানুষের ভোগান্তির কথা শুনে খুবই খারাপ লাগলো। এই বয়সে তিনি যে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। না জানি কবে তার এ সমস্যার সমাধান হবে।

তো বন্ধুরা আজকে এই সমস্যার জন্য দায়ী কে। দায়িত্ব যে ব্যক্তি হোক না কেন ভোগান্তি শুধু তাদেরই যাদের ভোটার তালিকায় নাম কর্তান হয়েছে। যার মাধ্যমে এই ভুলটি হয়েছে তার তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

তো ভোটার তালিকা থেকে নামবর্তন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে পরে। মৃত্যু ব্যক্তিদের নাম কর্তন না করা হলে, দেশের মোট ভোটার এর সংখ্যা হিসাব করা সম্ভব হবে না। অরিজিনাল ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্যে মৃত্যু ব্যক্তিদের নাম কর্তন করা হয়।

যেসব কারণে জীবিত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তন হয়

আমরা জানি যে, ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের সময় যারা আগে কখনও ভোটার হয়নি, তাদেরকে নতুন ভোটার করার জন্য তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। সেই সঙ্গে মৃত্যু ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তন করার জন্য ফরম পূরণ করেন।

তাই আপনারা যদি জানতে চান, যেসব কারনে জীবিত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তন হয়। তাদের মধ্যে রয়েছে যেমন-

  • তথ্য সংগ্রহকারী ব্যক্তিদের অসাবধানতা।
  • ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এর টাইপিং মিস্টেক।
  • এলকার শক্রতার কারণে।

উক্ত কারণ গুলোর জন্য মূলত ভোটার তালিকা থেকে জীবিত ব্যক্তির নাম কর্তন হয়ে যায়।

ভোটার তালিকা থেকে জীবিত ব্যক্তির নাম কর্তন হয়ে গেলে পুনরায় ঠিক করার উপায়

ভোটার তালিকা হতে একবার ব্যক্তির নাম কর্তন হয়ে গেলে সেটি পুনরায় ফিরে পাওয়া অনেক সময়ের ব্যাপার ছিল। তার কারণ মাঠ পর্যায়ে এই কাজ গুলো করা যেত না।

ব্যক্তির নাম কর্তন কৃত ভোটার রোল ব্যাক করার কাজ এক মাত্র হেড অফিস থেকে করা হতো। কিন্তু প্রাথমিক অবস্থায় মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হতো।

তবে বর্তমান সময়ে ভুল বসতঃ ভোটার তালিকা থেকে জীবিত ব্যক্তির নাম কর্তন হলে সেটি পুনরায় ঠিক করার কাজ এখন উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকেই করা যায়।

কিন্ত ভোটার তালিকায় নাম পুনরায় বহাল রাখার জন্য আপনি যে, জীবিত আছেন। তার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় প্রমাণ পত্র লাগবে।

এখন প্রশ্ন করতে পারেনে যে, আমি তো আপনার সামনে তাহলে আর প্রমাণ কিসের। হ্যা আপনার প্রশ্নের যুক্তি আছে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাগজপত্রর মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়।

ভোটার তালিকা থেকে কর্তনকৃত নাম পুনরায় বহাল রাখার জন্য প্রমাণ হিসেবে যে কাগজ পত্র গুলো সংগ্রহ করতে হবে। সেগুলো হলো-

সরাকারি হাসপালের চাকরি করেন এমন কোন এমবিবিএস ডাক্তার এর মাধ্যমে মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। যেখানে বলা থাকবে আপনি মৃত নন, জীবিত আছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ, পৌর কাউন্সিলর এর নিকট হতে জীবিত আছেন মর্মে একটি প্রত্যয়ন পত্র ও নাগরিক সনদ পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি।

এছাড়া, উপজেলা নির্বাচন অফিসার বরাবর একটি আবেদন দাখিল করতে হবে। সেই সাথে আবেদন পত্র নিয়ে আবেদনকারী কে স্ব-শরীরে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের সামনে উপস্থিত হতে হবে।

শেষ কথাঃ

তো আপনাদের যদি ভোটার তালিকা থেকে জীবিত ব্যক্তির নাম কর্তন হয়ে থাকে। তাহলে উপরে দেওয়া তথ্য গুলো অনুসরণ করে, খুব সহজেই উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন দাখিল করলে আপনার সমস্যার সমাধান করে নিতে পারবেন।

এছাড়া ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কে আপনার যদি আরো কোন তথ্য জানার দরকার হয়। তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন। আশা করি, ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পেয়ে যাবেন।

আর আমাদের এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আপনার জন্য আরও আর্টিকেল

Leave a Comment