ডিজিটাল কনটেন্ট কি ? ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার এবং কিভাবে তৈরি করবেন?

আপনি কি ডিজিটাল কনটেন্ট কি? ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার এবং কিভাবে তৈরি করবেন, সে বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন। যদি তাই হয় সঠিক একটি আর্টিকেলে চলে এসেছেন।

বর্তমানে ডিজিটাল যুগে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট গুলো পাবলিশ করা বা প্রচার করা হয়। তার মধ্যে ডিজিটাল কন্টেন্ট কোন গুলো, এগুলোর বিষয়ে হয়তো অনেকেই বোঝেন না।

এদের চিন্তার কোন কারণ নেই। আজকের আর্টিকেলে আমরা ডিজিটাল কন্টেন্ট কি? এবং কিভাবে এটি ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব।

তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের লেখাটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

ডিজিটাল কনটেন্ট কি ? ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার এবং কিভাবে তৈরি করবেন?
ডিজিটাল কনটেন্ট কি ? ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার এবং কিভাবে তৈরি করবেন?

ডিজিটাল কনটেন্ট কি ?

ডিজিটাল কন্টেন্ট কে এমন এক ধরনের মিডিয়া বলা যেতে পারে। যা একটি সংগঠন, ব্যক্তি, অনলাইন মার্কেটার, কোন কোম্পানি, এফিলিয়েট মার্কেটার কিংবা ব্লগার দ্বারা তৈরি হয়।

এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- ব্যবহারকারী বা দর্শক, ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ভিজিটর, গ্রাহক ইত্যাদি সঙ্গে সংযুক্ত থাকা বা জড়িত থাকা। আর এই ধরনের কনটেন্টগুলো তৈরি করার জন্য বিভিন্ন অনলাইন সিস্টেমগুলো ব্যবহার করা হয়।

এখন যদি ডিজিটাল কনটেন্ট কে আরো সহজ করে বলি তাহলে। এটি এমন এক ধরনের ডিজিটাল ডাটা আকারে বিদ্যমান। যা বিভিন্ন ডিজিটাল মিডিয়া গুলোতে স্টোর করে রাখা হয়।

উক্ত ডিজিটাল মিডিয়াগুলোর উদাহরণ হচ্ছে- ডিজিটাল ভিডিও, ওয়েবপেজ, ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া, ডিজিটাল ডাটা, ডাটাবেজ, ডিজিটাল অডিও সহ ভিডিও গেম ইত্যাদি।

ডিজিটাল কনটেন্ট বিভিন্ন ধরনের তথ্যগুলোকে সংরক্ষিত করে রাখে। যেগুলোকে ডিজিটালভাবে সম্প্রচারিত, স্ট্রিম করা বা কম্পিউটারে ফাইল হিসেবে স্টোর করে রাখা যায়।

তো আশা করি এ বিষয়ে বুঝতে পেরেছেন। এখন চলুন ডিজিটাল কনটেন্টের প্রকার গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার ও কি কি?

ডিজিটাল কন্টেন্ট হচ্ছে এমন এক ধরনের তথ্য বা মিডিয়া যেগুলো ডিজিটাল ফরমেটে তৈরি করা হয়। নিচের অংশে আমরা সবথেকে জনপ্রিয় ও প্রচলিত ডিজিটাল কন্টেন্ট গুলোর প্রকার ও কি কি এ বিষয়ে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি।

ডিজিটাল টেক্সট কনটেন্ট

  • লেখা এবং ব্লগ পোস্ট- ওয়েবসাইট এবং ব্লগ সাইট গুলোতে প্রকাশিত লেখাগুলো মূলত ডিজিটাল টেক্সট কন্টেন্ট হিসেবে বিবেচিত।
  • ই-বুক এবং পিডিএফ ফাইল- সাধারণত একাধিক ডিজিটাল পৃষ্ঠা, ছবি, গ্রাফিক্স ইত্যাদি সহায় লেখা এবং প্রকাশিত টেক্সট মিডিয়া ডিজিটাল কনটেন্ট।
  • ইমেইল এবং নিউজ লেটার- ইলেকট্রনিক ভাবে, ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো এবং বিতরণ করার লেখাগুলোকে ডিজিটাল টেক্সট কন্টেন্ট বলা হয়।

ডিজিটাল ইমেজ কনটেন্ট

  • ছবি ও গ্রাফিক্স- ডিজিটাল ফরমেটে তৈরি বা শেয়ার করার বিভিন্ন ভিজুয়াল ও গ্রাফিক্স কন্টেন্ট গুলোকে ডিজিটাল ইমেজ কন্টেন্ট বলা হয়।
  • ইনফোগ্রাফিক- অথবা ডাটা গুলোর এক ধরনের গ্রাফিক ভিজুয়াল উপস্থাপনা করা কে ডিজিটাল ইমেজ কন্টেন্ট বলা হয়।

ডিজিটাল অডিও কনটেন্ট

  • পটকাস্ট- এগুলো এক ধরনের ডিজিটাল অডিও ফাইল যা ইন্টারনেট স্ট্রিম করা এবং ডাউনলোড করা যায়।
  • সংগীত- ডিজিটাল ফরম্যাটে থাকা গান, অ্যালবাম এবং বিভিন্ন ধরনের প্লেলিস্ট সমূহকে বোঝায়।
  • অডিও বুক- বিভিন্ন বইগুলো থেকে তৈরি করা সেগুলোর অডিও ভার্সন সংগ্রহ কাকে বোঝায়।

ভিডিও কনটেন্ট

  • শর্ট ভিডিও- এগুলো সাধারণভাবে কয়েক সেকেন্ডের বা কয়েক মিনিটের ক্লিপ সমূহ। যেগুলো টিকটক প্লাটফর্মে বা ইনস্টাগ্রাম প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড করা হয়।
  • ইউটিউব ভিডিও- বিভিন্ন টপিকে বিভিন্ন ভাষায় তৈরি করা দীর্ঘ আকারের ভিডিওগুলো ফ্রিতে স্টিম করা হয়।
  • টিউটোরিয়াল ভিডিও- শিক্ষামূলক কনটেন্ট, সাধারণ ভিডিও ফরমেটে এগুলোকে সংযুক্ত করা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট

  • পোস্ট- সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোতে শেয়ার করা বিভিন্ন টেক্সট, ছবি এবং ভিডিও কনটেন্ট গুলোকে বোঝায়।
  • লাইভ স্ট্রিমিং- সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ফেসবুক লাইভ বা switch এর মতো প্ল্যাটফর্ম গুলোতে হওয়া রিয়েল টাইম ভিডিও সম্প্রচারগুলোকে বোঝায়।
  • স্টোরিস- instagram এর মত প্ল্যাটফর্ম গুলোতে হওয়া বিভিন্ন অস্থায়ী ও স্বল্প স্থায়ী কন্টেন্ট গুলোকে বোঝায়।

গেমিং কনটেন্ট

  • ভিডিও গেমস- বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের জন্য তৈরি করা ভিডিও গেম গুলোকে বুঝানো হয়।
  • গেমস স্ট্রিমিং- ভিডিও গেমস গুরোর লাইভ বা রেকর্ড করা পেমস প্লে ভিডিও গুলোকে বোঝায়।

শিক্ষামূলক কনটেন্ট

  • অনলাইন কোর্স- অনলাইনের মাথ্যমে প্রদান করা বিভিন্ন শিক্ষামূলক কোর্স গুলোকে বোঝানো হয়।
  • শিক্ষামূলক ভিডিও- বিশেষ দক্ষতা ও কৌশল গুলো শেখানোর জন্য ডিজাইন এবং ভিডিও তৈরি করাকে বোঝায়।

এই গুলো ছাড়া আরো অনেক ডিজিটাল কনটেন্ট রয়েছে। কিন্তু উক্ত আলোচনায় যে সকল ডিজিটাল কনটেন্ট এর প্রকার দেখতে পারলেন। এগুলো মূলত বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রচলিত।

ডিজিটাল কনটেন্ট কিভাবে তৈরি করবেন?

ডিজিটাল কনটেন্ট কি ? ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার ও কি কি এই বিষয়ে আপনারা উক্ত আলোচনায় জানতে পারলেন। এখন আমি আপনাকে জানাবো। ডিজিটাল কনটেন্ট কিভাবে তৈরি করবেন।

ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করার জন্য আপনারা বিভিন্ন ধরণের ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন- সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগিং, ইউটিউব, গ্রুপ/ কমিউনিটি ইত্যাদি প্লাটফর্ম।

এক্ষেত্রে আপনি চাইলে ভিডিও তৈরি করে, ইউটিউবের মধ্যে আপলোড করতে পারবেন। আবার ব্লগার সাইটের মাধ্যমে নিজের তৈরি করা সাইটে টেক্সট, ইমেজ ও গ্রাফিক্স কনটেন্ট তৈরি করে আপলোড করতে পারবেন।

তাছাড়া, আপনি চাইলে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলো ব্যবহার করে, টেক্সট, ইমেজ, ভিডিও, ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের কনটেন্ট তৈরি করে আপলোড করতে পারবেন।

এগুলোর বাইরে আপনারা চাইলে, পিডিএফ ফাইল, ই-বুক, পডকাস্ট, ইনফোগ্রাফিক্স ইত্যাদির মাধ্যমে ডিজিটাল মিডিয়া গুলো কে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন।

অবশ্যই পড়ুনঃ

শেষ কথাঃ

তো আপনারা উক্ত আলোচনা অনুসরণ করে, ডিজিটাল কনটেন্ট কি? ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার এবং ডিজিটাল কনটেন্ট কিভাবে কোথায় তৈরি করবেন। সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারলেন।

এখন এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার যদি আরো কিছু জানার থাকে। আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আর আমাদের এই সাইট থেকে ডিজিটাল কনটেন্ট লেখা সম্পুন্ন গাইডলাইন পেতে ভিজিট করুন।

ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 thought on “ডিজিটাল কনটেন্ট কি ? ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার এবং কিভাবে তৈরি করবেন?”

Scroll to Top