চেক কি ? চেক কত প্রকার ও কি কি ? চেক লেখার নিয়ম জানুন!

চেক কি : চেক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে, যতই অনলাইন ব্যাংকিং এর প্রক্রিয়া চালু হোক না কেন? ব্যাংকের নিজস্ব কিছু নিয়ম পুরোপুরি ভাবে পাল্টে ফেলা কোনদিন সম্ভব হবে না।

চেক কি ? চেক কত প্রকার ও কি কি ? চেক লেখার নিয়ম জানুন!
চেক কি ? চেক কত প্রকার ও কি কি ? চেক লেখার নিয়ম জানুন!

সে নিয়ম এর মধ্যে প্রধান একটি বিষয় হলো চেক। আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা জানতে পারবেন, চেক কি? চেক কত প্রকার ও কি কি এবং চেক লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত।

চেক কি ?

চেক হচ্ছে, একটি আর্থিক ডকুমেন্ট। এর মাধ্যমে কোন ব্যক্তি তার নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্ট হতে অন্য ব্যক্তি বা কোম্পানির একাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের আদেশ প্রদান করে থাকে।

যার কাছে অর্থ পাঠানোর আদেশ ব্যাংকে প্রদান করা হয়। সেই ব্যক্তি বা কোম্পানির নামে সেই চাকরি ইস্যু করার বা লেখা হয়। এ চেকের মাধ্যমে প্রায় সকল ব্যাংক গুলো সুরক্ষিতভাবে, নিরাপদ ও সুবিধাজনকভাবে লেনদেনের সার্ভিস দিয়ে থাকে।

চেক একটি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে কাজ করে থাকে। তাই চেক ব্যবহার করে টাকা লেনদেনের সময় হার্ড ক্যাশের ব্যবহার জড়িত থাকে না। তাই অর্থ চুরি হওয়া বা ক্ষতি হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই।

আর এই চেক হচ্ছে ব্যাংকিং জগতের মেরুদন্ড। এখনো দেশের অনেক মানুষ এর চেকের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে থাকেন। সাধারণত পথের ট্র্যাকের মাধ্যমে একটি করে চেক নম্বর এবং কোড দেওয়া থাকে।

আশা করি আপনারা চেক কি এ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।

চেক কত প্রকার ও কি কি ?

আমরা জানি একটি ব্যাংক শাখায় বিভিন্ন ধরনের চেক সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু আপনি কোন ভাবে চেক ব্যবহার করতে চান? এটি সম্পূর্ণভাবে আপনার এবং সেই ব্যক্তি বা কোম্পানিকে আপনি টাকা পাঠাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করবে।

এজন্য আপনি হলেন চেক ড্রয়ী এবং যাকে টাকা পাঠাচ্ছেন তিনি হচ্ছেন Payee. আর এই প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো এর ওপর ভিত্তি করে আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের চেক দেখতে পাওয়া যায়।

তো এমন কিছু প্রয়োজনীয় চেকগুলো সম্পর্কে আমি বলে দেবো বিশেষ করে চেক কত প্রকার ও কি কি জানতে নিচের অংশ দেখুন।

বিয়ারার বা বহনকারী চেক

বিয়ারার চেক যে ব্যক্তি যে একটি বহন করছে তাকে সরাসরি টাকা প্রদান করা হবে। এর চেকগুলোর ডেলিভারি মাধ্যমে প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

মানে বিয়ারার চেক গুলো ব্যাংকে নিয়ে যাওয়া হলে আপনাকে সরাসরি টাকা প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকে সে ব্যক্তিকে টাকা দিতে হলে চেকটি ইস্যুকারের কাছে থেকে কোনরকমে অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন থাকে না।

আর এ ধরনের চেক সনাক্ত করার সহজ উপায় হচ্ছে এতে বিয়ারা শব্দটি উল্লেখ করা থাকে। মূলত এই বিয়ার চেক গুলো যার কাছে থাকবে সেই মালিক।

অর্ডার চেক

অর্ডার চেক গুলোতে বেয়ারার শব্দগুলো বাতিল করা হয়। এই চেক গুলোতে শুধুমাত্র সেই সকল ব্যক্তিকে টাকা দিতে সম্মত হয় যার নামে চারটি লেখা রয়েছে।

আর ব্যাংক থেকে পেমেন্ট দেওয়ার আগে চেক ড্রয়ার এর পরিচয় প্রমাণ করনের জন্য ব্যাংকটার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে শুনে তারপর পেমেন্ট করেন।

ক্রসড চেক

আপনি ক্রসড চেকের উপর বাম দিকে লেখা দেখতে পারবেন a/c payee শব্দ। এই শব্দটির সাথে দুটি ঢালু সামান্তার লাইন দেখা যাবে। এই লাইনগুলো নেট চেক করে যে, যার নামে মূলত যে একটি লেখা হয়েছে শুধুমাত্র তাকেই অর্থ প্রদান করা হবে।

ক্রসড যেগুলো ব্যাংকে নিয়ে ভাঙ্গানোর সময় কোন তৃতীয় ব্যক্তি টাকা উত্তোলন করতে পারবে না। কারণ এই চেকগুলোতে যাকে টাকা দেয়া হবে, সেই প্রাপকের নাম সহ ব্যাংক একাউন্টের নাম্বার যুক্ত করা হয়।

আর প্রাপকের দেওয়া ব্যাংক একাউন্ট নাম্বারে পাঠানো টাকা গুলো সরাসরি চলে যায়। এই চেকগুলোর তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাপকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বারে সরাসরি টাকা পাঠানো সম্ভব।

ওপেন চেক

ওপেন চেক হচ্ছে মূলত ক্রসড চেকগুলোর বিপরীত। এই ওপেন চেকগুলো থেকে টাকা যে কোন ব্যাংক থেকে তোলা সম্ভব। এই চেক যে ব্যক্তি বহন করছে তাকেই টাকা প্রদান করা হবে।

মূলত প্রাপকের থেকে এ ধরনের চেকগুলো সহজেই অন্য প্রাপকের কাছে হস্তান্তর করা যায়। তবে চেকের টাকা উত্তোলনের সময় চেকের সামনে এবং পেছনে স্বাক্ষর দিতে হয়।

পোস্ট ডেটেড চেক

এ ধরনের চেকগুলো ঈসহকারীরা টাকা নগদ গ্রহণ করার জন্য অদূর ভবিষ্যতের কোন এক নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে থাকে। এমনকি বহনকারী যদি এই চেকটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকে নিয়ে যাই সে ক্ষেত্রে উল্লেখিত তারিখের আগে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেনা।

তাই এই ধরনের ট্যাগ গুলো উল্লেখিত তারিখের পরে বৈধ্য দেওয়া হয় তার আগে নয়।

সেলফ চেক

আপনি ড্রয়ী কলমে সেলফ শব্দটি লিখে একটি চেকে সেলস চেক এ রূপান্তরিত করতে পারবেন। আর এই চেকগুলো শুধুমাত্র ইস্যুকারের নিজস্ব একাউন্টে থাকা ব্যাংকে ব্যবহার করতে হবে।

এই ছিল বিভিন্ন চেকের প্রকার সমূহ। এর চেক গুলো ছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের চেক রয়েছে। আপনারা ব্যাংকের মাধ্যমে সংগ্রহ করে, টাকা আদান-প্রদান করতে পারবেন।

চেক লেখার নিয়ম

বেশিরভাগ দেশগুলোতে টাকা প্রদানের সবচেয়ে সাধারণ ব্যবস্থা গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চেক। কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির বিশাল অগ্রগতির জন্য মানুষ ইলেকট্রনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে পেমেন্ট করাকে বেশি পছন্দ করে থাকেন।

তারপরও আমাদের উচিত চেক লেখার সময় আমরা যে সাধারণ ভুলগুলো করি সেগুলো শুধানো। কারণ আমাদের বাংলাদেশে এখনো অনেক প্রচুর মানুষ পেমেন্টের জন্য চেকের উপর নির্ভরশীল হয়ে রয়েছে।

এমনকি চেকের এমন অনেক মৌলিক বিষয় আছে যা আমরা কাউকে চেক দেওয়ার সময় উপেক্ষা করি। আর যার ফলে সহজে অন্য কেউ আমাদের চেক গুলো অপব্যবহার করতে পারে। তাই চেক লেখার সময় বিভিন্ন বিষয়ে বিবেচনা করে তারপর চেক লেখা উচিত।

তো আমি আপনাদের সুবিধার জন্য এখানে চেক লেখার নিয়ম জানিয়ে দিচ্ছি।

  • চেকে সঠিক ভাবে তারিখ লিখুন
  • চেকে Payee বা প্রাপকের নাম লিখুন
  • চেকে অর্থের পরিমাণ শব্দে এবং সংখ্যায় লিখুন
  • চেকের প্রথম অংশে এবং পেছনের অংশে স্বাক্ষর করুন
  • চেকের MICR ব্যান্ডের উপর স্বাক্ষর করবেন না
  • চেকে ওভাররাইট করবেন না

এখন উপরে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী আপনি যদি চেক লিখতে পারেন। তাহলে এটি নিরাপদ ভাবে ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন, কোন ঝামেলা ছাড়াই।

শেষ কথাঃ

আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহক হয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে আপনার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করার জন্য, নির্দিষ্ট চেক ব্যবহার করতে হবে।

তাই আমরা আপনাদের সুবিধার জন্য আজকের এই আর্টিকেলে, চেক কি ? চেক কত প্রকার ও কি কি ? এবং চেক লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানিয়ে দিলাম।

এখন চেক সম্পর্কে আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

ধন্যবাদ।

আপনার জন্য আরও আর্টিকেল

Leave a Comment